রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, দুপুর ১২:০১
শিরোনাম :
বরিশালে ফিরোজ ও এনায়েতের নেতৃত্বে ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি বাঁধনের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএম কলেজে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ বিএম কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন কলেজে আলোচনা সভা সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড.মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর!

গদখালিতে পৌষকালী মেলায় দর্শনার্থীদের ভীড়

শিমুল সরকার,যশোর প্রতিনিধি  ঝিকরগাছায় গদখালি সার্বজনীন কালী মন্দির।প্রায় ৭শত বছরের প্রাচীন মন্দির।পৌষকালী পুজো ঘিরে গদখালি কালী মন্দির প্রাঙ্গনে শুরু হয়েছে তিনদিন ব্যাপী মেলা।হাজারো ভক্তের পদচারণায় মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ।

মেলায় বসেছে নাগরদোলা,মিষ্টি মিঠাই,কসমেটিস, আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের হরেক রকমের দোকান।কেনাকাটায় ব্যস্ত নারী,পুরুষ, শিশু সব বয়সী মানুষ।

আয়োজকরা বলছেন, কয়েক শত বছর ধরে পুজো উপলক্ষ্যে মেলার আয়োজন হয়ে আসছে।আগে একদিনের মেলা হলেও বিগত ২৪ বছর ধরে তিনদিনের মেলা আয়োজন করা হচ্ছে।

কালীপুজোর প্রসাদ নিতে ভক্তদের তোড়জোড়।সর্বস্তরের মানুষের পদচারণায় মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ।হাজারো ভক্তের কেউ আরাধনায়,কেউ ধ্যানে,আবার অনেকেই মেলায় কেনাকাটায় ব্যস্ত।মেলা ঘুরে দেখা যায়,কয়েক শত স্টলে কেনাকাটার ধুম পড়েছে।গ্রামীণমেলার ঐতিহ্যের কোন কিছুর কমতি নেই।নাগরদোলায় শিশুদের পাশাপাশি নানা বয়সী নারী-পুরুষও আনন্দে মাতোয়ারা। হরেক রকমের খেলনা ও কসমেটিসের পসরা নিয়ে বসেছেন দোকানীরা।দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন,মেলা শুরু হলো আজ,জমছেও ভাল।

বেচাকেনা ভাল হবে আশা করছি।কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যবসায়ী হামিদ উদ্দিন বলেন,প্রথমবারের মত এবার মেলায় দোকান দিয়েছি।বিক্রি মোটামুটি ভাল হচ্ছে।আশাকরি বাকী দুদিন আরও ভাল বিক্রি হবে।যশোরের অভয়নগর থেকে আসা অপর ব্যবসায়ী আনন্দ পাল জানালেন,কসমেটিকসের জিনিসের চাহিদা বেশি।গ্রামের সব বয়সী মানুষের ভিড় করছে। বেচাকেনা ভাল হচ্ছে।

মেলায় দা,কাস্তে,বটি ইত্যাদি জিনিসের পসরা নিয়ে বসা ব্যবসায়ী চন্দ্রা রক্ষিত বলেন,প্রতিবারই মেলায় দোকান দিই,এবারও দোকান দিয়ে বসেছি।বিক্রিও ভাল হচ্ছে।আসবাবপত্র বিক্রির দোকানও বসেছে। সেখানেও ক্রেতার ভিড় লক্ষ করা গেছে।মেলার অন্যতম আকর্ষণ বাহারী মিষ্টি বিক্রির ধুম চোখে পড়েছে।মিষ্টির দোকানীরা ব্যস্ত সময় পার করছে।এছাড়া পাপড়, ফুচকা বিক্রেতাদেরও বিক্রির ধুম ছিল।

মেলা হাজারো ভক্তের পদচারণায় মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ।

মেলায় কথা হয় দর্শনার্থীদের সঙ্গে। ঐতিহ্যবাহী মেলায় এসে উচ্ছ্বসিত দর্শনার্থীরাও ।কলারোয়া থেকে আসা সুজিত চন্দ্র জানায়, আমার মায়ের সঙ্গে এসেছি পৌষকালী পুজো দেখতে।ভিড়ের মধ্যে মায়ের সঙ্গে ঘুরছি।প্রসাদ নিয়ে বাড়ি ফিরবো।

বসুন্দিয়ার ইরাবতী ঘোষ জানান,প্রতিবছর পুজোয় আসি। এবারও মায়ের পুজো দিতে এসেছি।পরিবারের আরও লোকজন আছে।

গদখালি সার্বজনীন কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র ভক্ত জানান,পৌষকালী পুজো উপলক্ষ্যে তিনদিনের মেলা শুরু হয়েছে। প্রথম দিকে একদিনের মেলা ছিল।

১৯৯৬ সাল থেকে পুজোয় তিনদিনের মেলার আয়োজন হচ্ছে।প্রতিবছর জমজমাট মেলা হয়।এবার মেলায় ছোট বড় প্রায় ২’শ স্টল বসেছে।হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ।তিনি আরও বলেন,মেলার নিরাপত্তায় ৬০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক দল রয়েছে।পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।এছাড়াও মেলায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।নিরাপত্তা নিয়ে কোন সংশয় নেই।সর্বস্তরের মানুষের সমাগমে মেলা পরিপূর্ণ।